• নাস্তিক্যবাদ
  • সমাজ
  • তৃতীয় লিঙ্গ, যৌন বৈচিত্র্য এবং বাংলাদেশের মানবিক সংকট

    তৃতীয় বিশ্বের বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থায় তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের নিয়ে মানবিক শূন্যতা বছরের পর বছর ধরে কেন? ৯৩% মুসলমানের দেশে একজন মানুষের অধিকার, সম্মান ও মানবিক মর্যাদা নিয়ে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অন্তরায়ের জায়গাটি কোথায়?

    এমন প্রশ্নের সহজ উত্তর হলো, দশকের পর দশক ধরে চলে আসা ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং ইসলামী মৌলবাদীদের ধর্মীয় ফতোয়া। সেখানে সমকামিতা (গে, লেসবিয়ান), একাধিক লিঙ্গের মানুষের প্রতি যৌনতা অনুভব করা, কিংবা প্রচলিত লিঙ্গ পরিচয়ের বাইরে একজন মানুষ নিজেকে ভাবা যেন গর্হিত কাজ। এমন পরিচয় সামনে এলে এদের বাঁচিয়ে রাখা ইসলামে নিষিদ্ধ। এমন কিছু মনোভাব সত্যিকার অর্থে নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর।

    শরীরটা ছেলেদের মতো হলেও আমি মনে মনে একজন মেয়ে—চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন বিষয় খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু কথিত ইসলামে? এদের হত্যা করা ফরজ করা হয়েছে। এমন বাস্তবতা একটি মানবিক চ্যালেঞ্জ। যেখানে রাষ্ট্রের আইনও বাংলাদেশের দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারায় সমলিঙ্গের সম্পর্ককে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে। এ কমিউনিটির সকলেই কোনো না কোনোভাবে শারীরিক ও মৌখিক সহিংসতার শিকার হন।

    আমি একজন নাস্তিক হিসেবে বিশ্বাস করি—মানুষের মর্যাদা কোনো ধর্মগ্রন্থ, ফতোয়া বা সামাজিক অনুমোদনের ওপর নির্ভর করে না। একজন মানুষ কাকে ভালোবাসবেন, নিজেকে কীভাবে পরিচিত করবেন এবং কীভাবে জীবন যাপন করবেন, সে সিদ্ধান্ত তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অংশ। রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব হলো সেই স্বাধীনতা রক্ষা করা।

    আমি একটি রাজনৈতিক মতাদর্শেও বিশ্বাস করি। জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু আশ্চর্য হয়ে লক্ষ্য করছি, ভিন্ন যৌনতা ও পরিচয়ের মানুষদের সুরক্ষা দিতে এ রাজনৈতিক দলটি সরকারে এসেও ব্যর্থ। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে দীর্ঘ ১৭ বছর কাটিয়ে দেশে ফিরে গেলেও রাজনৈতিক ও মানসিক অঙ্গনে বসবাস করছেন দাঁড়ি, সাদা জোব্বা ও টুপি পরা ধর্মীয় উগ্রবাদ এবং র‍্যাডিক্যালপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে। এমন রক্ষণশীলতার কারণে সমকামীদের প্রতি ঘৃণার পরিবেশকে তিনি নিজেই পৃষ্ঠপোষকতা করছেন।

    রাষ্ট্র ও সমাজে সকল লিঙ্গ, ধর্ম এবং বর্ণ পরিচয়ের মানুষের স্বাধীন ভাবে বেঁচে থাকা ও জীবনধারণের অধিকার আছে। এটি যে কোন মানুষের মৌলিক মানবাধিকার।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *