এলজিবিটিকিউ মানুষের জন্য বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপট খুবই রূঢ়। এলজিবিটিকিউ অধিকার আইন এবং ইসলাম ধর্মের মসজিদের মিনারে দাঁড়িয়ে ইসলামিক কতিপয় কাঠমোল্লাদের ঘৃণার বয়ানের মাধ্যমে খর্ব করা হচ্ছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে। ভোরের আজানের সাথে অদৃশ্য স্রষ্টায় বিশ্বাসী এ মুসলিম প্রজাতির একটি নির্দিষ্ট অংশের জীবনের শুরুই হয় ঘৃণা, উগ্রবাদ, সহিংসতা এবং হত্যাযজ্ঞের ক্যাম্পেইনের মধ্য দিয়ে ভিন্ন ধর্ম, মত এবং মনস্তাত্ত্বিক মানুষকে নিঃশেষ করার বয়ান। নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়ে গোপন পরিচয়ে বেঁচে থাকছেন তারা।
সংগঠিত ধর্মীয় উগ্রবাদীদের দ্বারা অনুচ্চারিত ভালোবাসার গল্পে এক ধরনের দ্বিধা, আত্মপরিচয় প্রকাশের সংশয় প্রতিনিয়ত তাড়িত করে। সামাজিক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্র—প্রতিটি পর্যায়ে দাঁড়ি-টুপি-ওয়ালা শ্রেণীর গালভর্তি লোমওয়ালা একদল পাঠাদের লক্ষ্য করা যায়; এলজিবিটিকিউ শ্রেণীর মানুষদের যৌন মন্তব্য, রেপ থ্রেট এবং সামাজিকভাবে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে। সামাজিক প্রেক্ষাপটে বেঁচে থাকার তাগিদে অনেকেই পরিচয় গোপন রাখতে বাধ্য হয়।
ভালোবাসার সীমারেখা হয় না। একজন নারী পুরুষকে, একজন নারী নারীকে, পুরুষ পুরুষকে ভালোবাসাটা অন্যায় নয়। মানুষের ভালোবাসা বাইরের বৃত্তের বাইরে। গে, লেসবিয়ান, সমকামী, উভকামী সকল মানুষের ভালোবাসাই পবিত্র সত্ত্বার অনুচ্চারিত প্রকাশ।
বাংলাদেশের LGBTQ সম্প্রদায়ের মানুষদের মানসিক যন্ত্রণা, যাপিত জীবনের স্থবিরতা, ধর্মীয় (ইসলামিক) উগ্রবাদী উন্মাদনার কাছে জীবনের ভয়। যাপিত জীবন সম্পর্কে নিজস্ব জগতকে নিঃসন্দেহে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, সংবিধানে রাষ্ট্রের ধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার যে স্বপ্ন প্রতিস্থাপিত হয়ে আসছে দীর্ঘ সময়ের আবর্তে; সভ্য সমাজে আজ চরমপন্থিদের আস্ফালন দুনিয়াব্যাপী আকাশচুম্বী। একদিকে বিভিন্ন লিঙ্গ পরিচয়য়ে যারা জন্মগ্রহণ করেছে তাদের ভয়, সংকীর্ণ সমাজব্যবস্থা, রাষ্ট্রের নিরাপত্ততা প্রদানে সীমাহীন ব্যর্থতা এমন কিছু বিষয় বর্তমান আধুনিক সমাজব্যবস্থায় দাঁড়িয়েও একটি স্বাধীন জীবন সম্পর্কে এ মানুষদের নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়ে বাঁচিয়ে রাখে।
