• ধর্ম ও দর্শন
  • মতামত
  • মৌলবাদের কাছে বাংলাদেশকে সমর্পণ নয়—ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে এবার গণজাগরণ

    “সব লোকে কয় লালন কী জাত সংসারে,
    লালন বলে জাতের কী রূপ দেখলাম না এই নজরে।”

    বিখ্যাত বাউল সাধক লালন ফকিরের এ গানের মধ্যেই প্রকাশিত ধর্মান্ধতা ও বিভেদবিনাশী অস্তিত্বের বিরুদ্ধে জাগরণী প্রতিবাদ।

    বাংলাদেশে সময়ের সাথে ইসলাম ধর্মকে মৌলবাদী গোষ্ঠীর প্রতিক্রিয়াশীল সদস্যরা চাতুর্যের সাথে চরমপন্থার দিকে ধাবিত করেছে। ধর্ম ইসলামকে গণতন্ত্র, সেক্যুলারিজম, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মমুক্ত জীবনবোধ, নারীর স্বাধীনতা এবং যৌনতা সহ বৈচিত্র্য থাকা মানুষের জীবনের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নিয়ে গেছে। যেখানে দ্বীন ইসলাম প্রতিষ্ঠার অর্থই জিহাদ, ফতোয়া জারি, ভিন্ন মত, ধর্ম, গোত্র ও বৈচিত্র্যপূর্ণ জীবনের মানুষকে হত্যাযজ্ঞ করে তোলা হয়। জীবন সম্পর্কে তৈরি করা হয় ভীতি।

    অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময় থেকেই উগ্রবাদী গোষ্ঠী ছাত্র-তরুণদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছে, প্ররোচিত করেছে। এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি) গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে ইসলামী ঐক্যজোটের ব্যানারে জামায়াতে ইসলামীর মতো একটি মৌলবাদী গোষ্ঠীর নেতৃত্বে ধর্ম ইসলামের ছায়াতলে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির আশ্রয় নেয়। যা বাংলাদেশ রাষ্ট্রব্যবস্থায় গণতন্ত্রের সামগ্রিক ব্যবস্থা ও আদর্শিক স্থানকে ভূলুণ্ঠিত করে।

    জাতীয় নির্বাচন-পরবর্তী সময় থেকেই ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর দাবি জোরালো হতে শুরু করে। ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার দাবিতে শরিয়াহ আইনের বাস্তবায়ন, খেলাফত প্রতিষ্ঠা সহ এর বাস্তবায়নের দাবিতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর নির্বিচারে আক্রমণ, হত্যাযজ্ঞ, লুণ্ঠন, সাদাকালো কালেমাখচিত পতাকার মিছিল অবলোকন করেছে এ দেশের মানুষ। আতঙ্ক ছড়িয়েছে, সাধারণ মানুষ দেখল একদল টুপি, দাড়ি ও জোব্বা পরা ধর্মান্ধ উগ্রবাদী মুসলমানের উন্মাদনা দেখল। যারা শুধুমাত্র ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য দেশব্যাপী হত্যাযজ্ঞের মধ্য দিয়ে দ্বীন ইসলামের ভাবধারা বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশকে তালেবানি রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে ভিন্নতা থাকা মানুষদের হত্যাযজ্ঞ করে তোলা হলো।

    এই জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলামের আল্লামা মামুনুল হকের মতো ধর্মের কট্টরপন্থার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রকে পৃথক করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এবং জাতীয় সংসদে জামায়াতের মতো ৭১-এর স্বাধীনতাবিরোধী উগ্রবাদী শক্তি এর পেছনে নিয়ামকের ভূমিকায় অবতীর্ণ।

    আজকের বাংলাদেশের অস্তিত্ব সংকটে। ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের এ আবহ পুনরায় বাংলাদেশকে মনে করিয়ে দিচ্ছে অভিজিৎ রায়, রাজীব হায়দার, নীলয় নীল, ওয়াশিকুর বাবুদের নির্মম হত্যাকাণ্ডকে। মানবাধিকার, মানবতা, নারীর অধিকার, বাকস্বাধীনতার অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে। এই ধর্মান্ধ গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। একই সাথে আজ জামায়াতের মতো চরমপন্থী গোষ্ঠীর সদস্যদের পাশে বসিয়ে রাজনীতিকরণের এই সমীকরণ থেকে বিএনপি সরকার ও তারেক রহমানকে বেরিয়ে আসতে হবে। সেই ২০০১-২০০৬-এর স্মৃতি, অপকর্ম ও মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ ও চরমপন্থার বিস্তৃতির ও কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থানের জানান দিতে হবে। এই মৌলবাদকে মাথাচাড়া দিতে দেওয়া যাবে না।

    বাংলাদেশের সকল প্রগতিশীল মানুষদের বিপ্লব ও গণজাগরণ ছাড়া এই মৌলবাদের অপশক্তির সঙ্গে লড়াই অসম্ভব। যদি আজকের সময়ে এসে বিএনপিও যদি মৌলবাদের প্রতি ও এদের নিষিদ্ধ কার্যক্রমের প্রতি নমনীয়তা দেখায়, বিএনপিকেও বর্জন করতে হবে।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *