• ধর্ম ও দর্শন
  • মতামত
  • শিশু নির্যাতন ও সমকামিতা: এক করে দেখার সুযোগ নেই

    ধর্মীয় শিক্ষার আড়ালে বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসা, মসজিদ ও কোরআন শিক্ষার পরিসরে যে ধরনের অপরাধপ্রবণতার অভিযোগ ও ঘটনা সামনে আসছে, তা রাষ্ট্র, সমাজ ও ধর্মীয় মূল্যবোধের দৃষ্টিকোণ থেকে কতটা গ্রহণযোগ্য—সে প্রশ্ন এখন গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় আসাটা প্রাসঙ্গিক।

    রাষ্ট্রের আইনে দণ্ডবিধি ৩৭৭ ধারা অনুযায়ী পারস্পরিক সম্মতিতে দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের কিছু ধরনের যৌন সম্পর্ককে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। এখানে প্রকৃতির নিয়মের বিরুদ্ধে যৌনসংগমে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ দশ বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে।

    আইনকাঠামোতে এ ধরনের আইন মানুষের যৌন পরিচয় এবং নিজস্ব স্বাধীনতা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে একটি অন্তরায়। এখানে রাষ্ট্র একজন মানুষের মানবাধিকারকে লঙ্ঘিত করছে এবং হস্তক্ষেপ করছে একজন নাগরিকের পরিচয় প্রকাশের ক্ষেত্রেও।

    কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আমরা কি দেখতে পাই?

    ধর্মীয় শিক্ষার অন্তরালের সেসব প্রতিষ্ঠানের ধর্ষণ ও বলাৎকারের মতো ঘটনাপ্রবাহ। যেখানে এসব প্রতিষ্ঠানের আলেম, ইমাম, ছাত্র এমনকি শীর্ষ মওলভীরা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় শরিয়াহ আইন, ধর্মীয় বিবেচনা, সামাজিক ভীতি ও চাপের প্রেক্ষিতে এ ধরনের অপরাধ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিচারের মুখোমুখি হয় না।

    মাদ্রাসায় ছেলে শিশু ধর্ষণ ও বলাৎকার আর সমকামিতা কি এক বিষয়?

    এর উত্তর না। দুটো একই বিষয় নয়। মাদ্রাসায় ছেলে শিশু ধর্ষণ (শিশু যৌন নির্যাতন) এবং সমকামিতা দুটো ভিন্ন বিষয়। আইনি, সামাজিক এবং মনস্তত্ত্ব যে কোনো দিক থেকেই এ বিষয়গুলো আলাদা। কারণ হিসেবে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কার্যে অনৈতিক বলতে চাই, এখানে একটি শিশুর শারীরিক, মানসিক ও আইনগত গ্রহণযোগ্যতা থাকে না। এটি একেবারেই নির্যাতন এবং অপরাধপ্রবণতার পর্যায়ে পড়ে। কিন্তু এর বিপরীতে সমকামিতা সে ধরনের সম্পর্ক যা মানুষের স্বাভাবিক যৌন পরিচয়ের প্রকাশ। এখানে বয়স, সম্মতি এবং সম্পর্ক স্থাপনে সদিচ্ছার একটি স্বতঃস্ফূর্ত বহিঃপ্রকাশ থাকে।

    রাষ্ট্র ও ধর্ম কোন আইনেই এ ধরনের সমকামীদের অধিকারকে খর্ব করা অনুচিত। এবং একজন নাগরিকের মানবাধিকারের ব্যত্যয়। সরকারের উচিত সমকামীদের অধিকার রক্ষার্থে ধর্মকে রাজনীতিকরণ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে ৩৭৭ ধারার মতো আইনকে সংশোধনী নিয়ে আসা কিংবা সম্পূর্ণ বাতিল করা উচিত।

    যে ধরনের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে শিশু নির্যাতন ও বলাৎকারের অভিযোগ প্রমাণিত হবে সেসবের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগকে নিশ্চিত করা। ধর্ম ইসলামের ভিত্তিতে মানুষের যৌন পরিচয় প্রকাশ এবং প্রয়োগের যে ক্ষেত্র এগুলোকে নিরাপত্তা বিধান করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

    ইসলামের সুনির্দিষ্ট বিধান, শরিয়াহ আইন সকলের উপরে চাপিয়ে দেওয়াটাও ধর্মের অপব্যবহার। ইসলাম ধর্মের মানদণ্ডে রাষ্ট্রে সকল কিছুর বিধান তৈরি অনুচিত। এ রাষ্ট্র সকল ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ও যৌন পরিচয়ের মানুষের।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *