বাংলাদেশে গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময় থেকে দ্বীন ইসলামকে ব্যবহার করে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটেছে। একই সাথে সারাদেশে শরিয়াহ আইন, ইসলামী খেলাফত ও কোরআনের আইন প্রতিষ্ঠার দাবিতে জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম, জামাতুল মুজাহিদিন, হিজবুত তাহরির, আনসার আল-ইসলামসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ব্যানারে আজকে সারাদেশে সরব ইসলামী মৌলবাদী, উগ্রবাদী ও জিহাদি গোষ্ঠীরা। এরা বাংলাদেশকে আফগানিস্তান ও তালেবানি রাষ্ট্রব্যবস্থার কাঠামোতে ঢেলে সাজাতে বদ্ধপরিকর।
কিন্তু আজকের বর্তমান পরিস্থিতি ঠিক কেমন?
জামায়াতে ইসলামীর মতো একটি মৌলবাদী রাজনৈতিক সংগঠন জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকায়। এর পেছনের ভূমিকায় আছে বিএনপি। যাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে আজকের বাংলাদেশে মৌলবাদীদের এই উত্থান। জাতীয়তাবাদী শক্তি হওয়ার পরও প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া ও আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানই মূলত এই মৌলবাদের উৎপাদক। যা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আজকের বাংলাদেশে উগ্র ডানপন্থী এই গোষ্ঠীর অভ্যুত্থানে ভূমিকা রেখেছে।
আজকে স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ ধরনের উগ্র মৌলবাদী সংগঠনগুলোর সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছে। এবং এসব ক্ষেত্রে নারীদের বিশাল একটি অংশগ্রহণ দৃষ্টি এড়ায় না। জামায়াতে ইসলামীর হয়ে ছাত্রশিবির ও ছাত্রী সংস্থায় আসা এসব মেয়েদের নিরাপত্তা অনিশ্চয়তায় পড়ছে।
জামায়াতে ইসলামীর মতো ধর্মভিত্তিক, মাদ্রাসাকেন্দ্রিক এ সকল ধর্মীয় মৌলবাদের লেবাসধারীরা ছাত্রী সংস্থার মেয়েদের যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহার করছে, মুতা বিয়ের নামে যৌনপীড়ন ও ভোগবাদী পণ্যে পরিণত করেছে।
শুধুমাত্র মুর্খা, হিজাপ, নেকাপ মানেই ইসলাম নয়। মূলত এসবের মধ্য দিয়ে প্রকৃত ইসলাম থেকে দূরে সরে গিয়ে এ ধরনের নারী ও পুরুষেরা ইসলামী রাজনীতির নামে ইসলামী ধর্ষক, ব্যভিচারক ও ব্যভিচারিণীতে পরিণত হয়।
এ সকল ধর্ম ব্যবসায়ীদের স্ত্রীর জীবনও এ সকল ছাত্রী সংস্কার মেয়েদের মতো যৌনতা, নিপীড়িত, ভগ্ন ও ফ্যাকাশে জীবনে পরিণত হয়।
কিছুটা অবাক হই, যখন কথিত হেফাজতে ইসলামের আল্লামা খচিত মামুনুল হকের মতো ব্যভিচারক অন্যের স্ত্রী নিয়ে যৌনকর্মে থাকা অবস্থায় উন্মোচিত হবার পরও নগ্নভাবে এই দেশে ইসলামী রাজনীতি চালিয়ে যেতে পারে।
ইসলাম ধর্ম ও এ ধর্ম ব্যবসায়ী এ সকল নারীদের প্রতি করুণা ছাড়া কী বোধ করতে পারি? যারা একটি প্রাতিষ্ঠানিক মৌলবাদীদের কাছে, উগ্রবাদীদের কাছে নিজেদের সম্ভ্রমকে উন্মুক্ত করে দিয়েছে ধর্ম প্রতিষ্ঠার নামে যৌন উন্মাদনার মধ্যে। এ ধরনের সত্য কথিত দৃষ্টিগোচর হলে এই সকল মৌলবাদী, উগ্রবাদী ও চরমপন্থী সংগঠনের ধর্মীয় যৌনকর্মীরা বেহেশতে ৭২ হুরের সাথে সঙ্গমের নেশায় উন্মাদ হয়ে জিহাদে ঝাঁপিয়ে পড়বে না—এর নিশ্চয়তা কী?
