সিলেটে পেসাররা কিছুটা বাড়তি সুবিধা পাবেন তা উইকেট দেখেই বুঝা গিয়েছিল। বাংলাদেশের ইনিংসেও সেটাই দেখা গেল। নতুন বলে বাংলাদেশি ব্যাটারদের বেশ ভুগিয়েছেন খুররাম শেওহজাদ-মোহাম্মাদ আব্বাসরা। তাদের সামলাতে হিমশিম খেয়েছেন জয়-মুমিনুলরা। টপ অর্ডার ব্যাটারদের ব্যর্থতার দিনে দারুণ ব্যাটিং করেছেন লিটন দাস। তার সেঞ্চুরিতে আড়াইশ পেরিয়েছে বাংলাদেশের ইনিংস।
Blog
-

ভিন্ন পরিচয়ের মানুষ: বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় এক অনিশ্চিত জীবন
এলজিবিটিকিউ মানুষের জন্য বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপট খুবই রূঢ়। এলজিবিটিকিউ অধিকার আইন এবং ইসলাম ধর্মের মসজিদের মিনারে দাঁড়িয়ে ইসলামিক কাঠমোল্লাদের ঘৃণার বয়ানের মাধ্যমে খর্ব করা হচ্ছে। ভোরের আজানের সাথে কথিত অদৃশ্য স্রষ্টায় বিশ্বাসী এ মুসলিম প্রজাতির যাপিত জীবনের শুরুই হয় ঘৃণা, উগ্রবাদ, সহিংসতা এবং হত্যাযজ্ঞের ক্যাম্পেইনের মধ্য দিয়ে শুরু ভিন্ন ধর্ম, মত এবং মনস্তাত্ত্বিক মানুষকে নিঃশেষ করার বয়ান। নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়ে গোপন পরিচয়ে বেঁচে থাকছেন তারা।
সংগঠিত ধর্মীয় উগ্রবাদীদের দ্বারা অনুচ্চারিত ভালোবাসার গল্পে এক ধরনের দ্বিধা, আত্মপরিচয় প্রকাশের সংশয় প্রতিনিয়ত তাড়িত করে। সামাজিক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্র—প্রতিটি পর্যায়ে দাঁড়ি-টুপি-ওয়ালা শ্রেণীর গালভর্তি লোমওয়ালা পাঠাদের লক্ষ্য করা যায়; এলজিবিটিকিউ শ্রেণীর মানুষদের যৌন মন্তব্য, রেপ থ্রেট এবং সামাজিকভাবে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে। সামাজিক প্রেক্ষাপটে বেঁচে থাকার তাগিদে অনেকেই পরিচয় গোপন রাখতে বাধ্য হয়।
ভালোবাসার সীমারেখা হয় না। একজন নারী পুরুষকে, একজন নারী নারীকে, পুরুষ পুরুষকে ভালোবাসাটা অন্যায় নয়। মানুষের ভালোবাসা বাইরের বৃত্তের বাইরে। গে, লেসবিয়ান, সমকামী, উভকামী সকল মানুষের ভালোবাসাই পবিত্র সত্ত্বার অনুচ্চারিত প্রকাশ।
বাংলাদেশের LGBTQ সম্প্রদায়ের মানুষদের মানসিক যন্ত্রণা, যাপিত জীবনের স্থবিরতা, ধর্মীয় (ইসলামিক) উগ্রবাদী উন্মাদনার কাছে জীবনের ভয়, জীবন সম্পর্কে নিজস্ব জগতকে নিঃসন্দেহে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, সংবিধানে রাষ্ট্রের ধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার যে স্বপ্ন প্রতিস্থাপিত হয়ে আসছে চৌদ্দশত বছর ধরে, ব্যভিচারী নবী মুহাম্মদ এবং এর খলিফাদের পথের উন্মাদ উম্মতদের প্রতি ঘৃণা পারদ সভ্য সমাজে আজ দুনিয়াব্যাপী আকাশচুম্বী।
-

তৃতীয় লিঙ্গ, যৌন বৈচিত্র্য এবং বাংলাদেশের মানবিক সংকট
তৃতীয় বিশ্বের বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থায় তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের নিয়ে মানবিক শূন্যতা বছরের পর বছর ধরে কেন? ৯৩% মুসলমানের দেশে একজন মানুষের অধিকার, সম্মান ও মানবিক মর্যাদা নিয়ে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অন্তরায়ের জায়গাটি কোথায়?
এমন প্রশ্নের সহজ উত্তর হলো, দশকের পর দশক ধরে চলে আসা ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং ইসলামী মৌলবাদীদের ধর্মীয় ফতোয়া। সেখানে সমকামিতা (গে, লেসবিয়ান), একাধিক লিঙ্গের মানুষের প্রতি যৌনতা অনুভব করা, কিংবা প্রচলিত লিঙ্গ পরিচয়ের বাইরে একজন মানুষ নিজেকে ভাবা যেন গর্হিত কাজ। এমন পরিচয় সামনে এলে এদের বাঁচিয়ে রাখা ইসলামে নিষিদ্ধ। অথচ মুসলমানদের কথিত ভণ্ড নবী মুহাম্মদের ইসলামে একাধিক বিয়ে করে গ্রুপ সেক্সের বৈধতা দেওয়া হয়েছে। যেমন নবী মুহাম্মদ ১১টি বিয়ে করে কামনা-বাসনার জীবন কাটিয়ে গেছেন একাধিক নারীর সঙ্গে।
শরীরটা ছেলেদের মতো হলেও আমি মনে মনে একজন মেয়ে—চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন বিষয় খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু কথিত ইসলামে? এদের হত্যা করা ফরজ করা হয়েছে। এমন বাস্তবতা একটি মানবিক চ্যালেঞ্জ। যেখানে রাষ্ট্রের আইনও বাংলাদেশের দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারায় সমলিঙ্গের সম্পর্ককে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে। এ কমিউনিটির সকলেই কোনো না কোনোভাবে শারীরিক ও মৌখিক সহিংসতার শিকার হন।
আমি একজন নাস্তিক হিসেবে বিশ্বাস করি—মানুষের মর্যাদা কোনো ধর্মগ্রন্থ, ফতোয়া বা সামাজিক অনুমোদনের ওপর নির্ভর করে না। একজন মানুষ কাকে ভালোবাসবেন, নিজেকে কীভাবে পরিচিত করবেন এবং কীভাবে জীবন যাপন করবেন, সে সিদ্ধান্ত তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অংশ। রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব হলো সেই স্বাধীনতা রক্ষা করা।
আমি একটি রাজনৈতিক মতাদর্শেও বিশ্বাস করি। জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু আশ্চর্য হয়ে লক্ষ্য করছি, ভিন্ন যৌনতা ও পরিচয়ের মানুষদের সুরক্ষা দিতে এ রাজনৈতিক দলটি সরকারে এসেও ব্যর্থ। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে দীর্ঘ ১৭ বছর কাটিয়ে দেশে ফিরে গেলেও রাজনৈতিক ও মানসিক অঙ্গনে বসবাস করছেন দাঁড়ি, সাদা জোব্বা ও টুপি পরা ধর্মীয় জারজদের সঙ্গে। এমন রক্ষণশীলতার কারণে সমকামীদের প্রতি ঘৃণার পরিবেশকে তিনি নিজেই পৃষ্ঠপোষকতা করছেন। সেক্ষেত্রে এই ব্যক্তি তারেক রহমানও মওলানাদের প্রজাতির সঙ্গে সঙ্গে গ্রুপ সেক্স কিংবা শুকর প্রজাতির গর্ভে জন্ম কিনা, তা ভেবে দেখবার বিষয়।
-

আওয়ামী দুঃশাসন এর পরের অধ্যায় কী ইসলামী উগ্র মৌলবাদ?
এমডি মিজানুর রহমান, ৪১, দিনাজপুর—আমার এ ধরনের লিখালিখির হাতেখড়ি বলতে গেলে। আমি আমার ক্ষুদ্র বুদ্ধিতে যা বুঝেছি, তা হলো: বাংলাদেশ যদিও মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ একটি দেশ, এটি আসলে অতটা ইসলামিক দেশ নয়, যেটা হিযবুত তাহরীর, হরকাতুল জিহাদ, হেফাজত, জামাত/শিবির মনে করে বা আশা করে। এই প্রেক্ষিতে আমার মনে হয়েছে, বাংলাদেশের ইরানের মতো হওয়াটা খুবই বাজে একটা ব্যাপার হবে। যেখানে নারীদের কোনো অধিকার নেই, সমকামী/অবিশ্বাসীরা মৃত্যুর মুখে দাঁড়ায় শুধু—তেমন একটা দেশের মতো হয়ে কী লাভ বাংলাদেশের?
[টিকাঃ মন্তব্যটি দৈনিক নবযুগ পত্রিকায় প্রকাশিত “আওয়ামী দুঃশাসন এর পরের অধ্যায় কী ইসলামী উগ্র মৌলবাদ?” শিরোনামে লিখায় মন্তব্য হিসেবে প্রকাশিত হয় ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৫; পরবর্তীতে ব্যক্তিগত ব্লগে পুনঃপ্রকাশ করা হলো।]
