• সমাজ ও রাজনীতি
  • ধর্ষণের শাস্তি প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ডের দাবি তুলল তালেবানি জামায়াত

    ধর্ষণের শাস্তি প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড চায় জামায়াত। এমন শিরোনাম গত ২৩ মে বাংলাদেশের জাতীয় পত্রিকাগুলোতে গুরুত্ব পেয়েছে।

    ‘শিশু রামিসাকে নৃশংসভাবে হত্যা ও সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে’ আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে এ আহ্বান জানান দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। দ্রুত ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে হত্যাকারীর ফাঁসি নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে আইন সংশোধন করে ধর্ষণের শাস্তি প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করতে হবে।

    কিন্তু প্রশ্ন হলো, চরমপন্থি রাজনৈতিক জামায়াত এমন উসুল পেল কোথায়? গণতান্ত্রিক একটি দেশে প্রকাশ্যে শাস্তি এক্সিকিউট করতে হবে—এ বিষয়ের উৎপত্তি নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যায়। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে উগ্রবাদ, মৌলবাদ ও চরমপন্থা পৌঁছে গেছে জাতীয় সংসদেও। এটি বেশ উদ্বেগের।

    ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে ইসলামি জঙ্গি সংগঠন জামায়াতের যে হেকমত জাতির সামনে দেখা গিয়েছিল, সেটি এক ধরনের কৌশল। জামায়াতের মতো একটি চরমপন্থী দলের সহীহ স্বপ্ন হলো প্রকাশ্যে দোররা মারা, শিরচ্ছেদ ও পাথর মেরে হত্যা করা। জামায়াতের অধিকাংশ নেতাকর্মীই এমন এক দুনিয়ারই স্বপ্ন দেখেন।

    ইসলামি চরমপন্থী জঙ্গি সংগঠন তালিবান ইতোমধ্যে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর শুরু করেছে। ইরান ও সৌদি আরবও তা করে থাকে, যা আধুনিক ও সভ্য রাষ্ট্র ব্যবস্থার মধ্যে আইয়ামে জাহেলিয়াতের অস্তিত্বের আত্মপ্রকাশ। বাংলাদেশেও ধর্মীয় রাজনীতি আগামীতে একই পরিণতি তৈরি করবে, যদি দেশে সকল ধরনের ধর্মভিত্তিক রাজনীতিকে এখনই নিষিদ্ধ না করা হয়। ইসলামকেন্দ্রিক যে ধরনের ধর্মভিত্তিক রাজনীতিই গড়ে উঠুক না কেন, তা সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও চরমপন্থারই আত্মপ্রকাশ ঘটায়। প্রতিটি ইসলামিক রাজনৈতিক সংগঠনই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের চর্চা করে।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *