সম্প্রতি আফ্রিকার দেশ ঘানার সংসদে সমকামীবিরোধী একটি কঠোর আইন পাস করা হয়েছে। এই আইনে বলা হয়েছে, কেউ যদি সমকামী (এলজিবিটিকিউ+) হিসেবে চিহ্নিত হয়, তাহলে তাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হবে। এরপরই সমকামীদের অধিকারের বিষয়টি বাংলাদেশসহ ধর্মীয়ভাবে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে থাকা দেশগুলোর বিভিন্ন গণমাধ্যমে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে স্থান করে নেয়।
আমি মনে করি, ধর্মীয় বিধিনিষেধ, রাষ্ট্রীয় আইন এবং জোরপূর্বক নিজেদের যৌনতার অধিকার চর্চা থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করা স্পষ্টতই মানবাধিকারের লঙ্ঘন। ভালোবাসা কোনো অপরাধ হতে পারে না। একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছায় যেকোনো লিঙ্গের মানুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়াতে পারবেন।
যেকোনো রাষ্ট্রেই আইন করে সমকামী এবং তাদের সমর্থকদের খুঁজে খুঁজে বের করে শাস্তির মুখোমুখি করা বা এটিকে বৈধতা দেওয়া গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
আমাদের বাংলাদেশেও ধর্মভিত্তিক রাজনীতি, ইসলামী উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদ, চরমপন্থা এবং ইসলামি মৌলবাদের মতো বিষয়গুলো বেশ প্রভাব বিস্তার করেছে। এসব গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে এলজিবিটিকিউ মানুষের প্রতি বৈষম্য ও বিদ্বেষ প্রদর্শনের মাধ্যমে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনকে বরাবরই ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলা হয়।
রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ভিন্ন যৌন ও লিঙ্গ পরিচয়ের মানুষদের বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে তাদের গণমাধ্যমের সামনে উপস্থাপন করে বলা হয় যে তারা সমকামী এবং মাদকদ্রব্য ব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্ত।
বাংলাদেশে যৌন ও লিঙ্গ সংখ্যালঘুরা এখনও নানা ধরনের চাপের মুখে রয়েছে। তাদের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক নিরাপত্তা অত্যন্ত শোচনীয় এবং স্পর্শকাতর। “প্রকৃতির নিয়মের বিরুদ্ধে যৌনসঙ্গম করার” দায়ে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে—এমন আইনেরও এক ধরনের প্রয়োগ লক্ষ্য করা যায়।
এ ধরনের আইন রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও পারিবারিক পর্যায়ে জীবনের নিরাপত্তা এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনকে কঠোর ও অমানবিক করে তুলছে। প্রতিটি মানুষেরই তাদের নিজস্ব যৌন পরিচয়ে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। সেই অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে এবং তাদের অধিকার রক্ষায় সামাজিকভাবে সচেতনতা ও আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
