বাংলাদেশে মাদ্রাসার ধর্মীয় শিক্ষকদের দ্বারা যৌন অপরাধ/শিশু বলাৎকার সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলো ঐতিহাসিকভাবে এই প্রবণতা লক্ষণীয়। তাঁরা কখনও কখনও সমকামী, কখনও ধর্ষক, কখনও বহুবিবাহবাদী, কখনও কখনও বিকৃত যৌনকর্মী হিসেবে সমাজের সামনে নিজেদের প্রকাশ করেছে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যৌন পীড়নের এ ঘটনাগুলো উদ্বেগজনক। আবাসিক মাদ্রাসাগুলোতে ধর্মীয় শিক্ষার অন্তরালে নাবালক শিশুদের মাদ্রাসার শিক্ষক ও ধর্মীয় আলেমদের দ্বারা সংঘটিত বলাৎকারের ঘটনাগুলোর বেশিরভাগই অপ্রকাশিত থেকে যায় শুধুমাত্র ধর্মীয় এক ধরণের ভীতিকর পরিবেশের কারণে।
শিশু অধিকার সংস্থাগুলোর বিভিন্ন প্রতিবেদন লক্ষ্য করলে এটি স্পষ্ট—অপ্রকাশিত যৌন নির্যাতন প্রকাশিত যৌন নির্যাতনের চেয়ে বেশি।
বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন প্রতিরোধের জন্য নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইন করা হয়েছে। প্রণীত এ আইনে মেয়েদের যৌন নির্যাতনের শিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু নাবালক ছেলেরাও যে সমকামী পুরুষদের দ্বারা যৌন পীড়নের শিকার হতে পারে এবং একটি শিশুর মানসিক বিকাশে কী ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে, সে বিষয়ে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সচেতনতার জায়গাটি বেশ হতাশাজনক।
বাংলাদেশের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে দেখা যায়, বলাৎকারের এসব বেশিরভাগ ঘটনাই অপ্রকাশিত থেকে যায় এবং কিছু ক্ষেত্রে যখন নাবালক শিশুদের ধর্ষণের মাধ্যমে হত্যা করা হয়, তখন উক্ত ঘটনাগুলো প্রকাশ্যে আসে।
দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসা ও ধর্মীয় সংগঠনগুলোকে প্রায়ই দেশে শরিয়াহ আইন প্রবর্তনের ব্যাপারে প্রচুর সরগরম দেখা যায়। কারণ দেশে কেবল শরিয়াহ আইন থাকলেই নবী মুহাম্মদের মত বিয়ের নামে ৬ বছরের শিশু আয়েশাকে বিয়ের নামে দিনের পর দিন যৌন পীড়নের মাধ্যমে বিকৃত যৌনাচার করা সম্ভব। এবং বলাৎকারের মত এসব ঘটনাগুলো কোনো বিচার ছাড়া দিনের পর দিন অপরাধকর্ম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব।
শুধুমাত্র ইসলামের নামে, ধর্মের আলখেল্লায় যে পরিমাণ যৌন পীড়ন ও যৌনাচার সংঘটিত হয়, তা ঐতিহাসিকভাবে নবী মুহাম্মদের অনুসারীদের তাঁদের নবীর মতো ১১ স্ত্রী, ২ যৌন দাসী কিংবা স্ত্রীর পুত্রের স্ত্রীকে ধর্ষণের মতো মানসিকতাকেই প্রকাশ করে।
এ ধরনের বলাৎকার ও যৌন পীড়নের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োজন। মাদ্রাসাগুলোতে যে ধরণের সমকামিতা নাবালক ছেলের যৌন পীড়নের মাধ্যমে হয়, তা অপরাধ। কিন্তু সমকামিতা অপরাধ নয়, যদি তা প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের সাথে পুরুষের হয়। বাংলাদেশে সমকামিতাকে অপরাধ হিসেবে দেখা হয় ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে, কিন্তু অসংখ্য মুসলিম ও ধর্মীয় আলেম আছেন, ঘরে সুন্দরী স্ত্রী থাকার পরেও সমলিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করেন। এটি খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়। তাই ধর্ম নয়, শরিয়াহ নয়; নিজস্ব প্রত্যাশা, যৌন চাহিদা উন্মুক্ত ও বিকশিত হোক এবং এর প্রয়োগের মধ্য দিয়েই স্বাভাবিকতা ফিরুক। শুধুমাত্র সমাজ ও রাষ্ট্রে সমকামীদের অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হলেই বলাৎকারের মতো যৌন পীড়ন কমে আসবে।
