বাংলাদেশের মাদারীপুর জেলার মডেল মসজিদ মোড়। আসরের নামাজ শেষ হতে না হতেই সেখানে আকস্মিকভাবে জড়ো হয় প্রায় দেড় শতাধিক মুসল্লি। সবার হাতেই কলেমাখচিত পতাকা। কোনোটির রঙ কালো, কোনোটির সাদা।
(তথ্যসূত্রঃ বিবিসি বাংলা)
এর বেশ কিছুক্ষণ পর মডেল মসজিদের সামনে থেকে শুরু হয় র্যালি। হাতে হ্যান্ডমাইক। এরপর শহরের বেশ কিছু স্থান প্রদক্ষিণ করে ফিরে এসে একটি সংক্ষিপ্ত সমাপনী অনুষ্ঠান দ্রুততার সঙ্গে শেষ হয় মিনিট দেড়েকের মধ্যে। এরপর তড়িঘড়ি করে অনুষ্ঠান শেষে চলে যান মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা।
মিছিলের মধ্যে থাকা একজন ব্যক্তি জানান, এ পতাকা মুসলমানের পতাকা।
কিন্তু প্রশ্ন এমন প্রাসঙ্গিক বিষয়ে একটু ভিন্ন।
৯৩% মুসলমানের দেশে কেন?
কী প্রয়োজনে?
কী উদ্দেশ্যে মুসলমানের পতাকা প্রদর্শনীর প্রয়োজন পড়ল?
উদ্বেগের বিষয়, এমন মিছিল কিংবা পতাকা প্রদর্শনীর ঘটনা এখন দেশের সর্বত্র চোখে পড়ছে।
উল্লেখ্য, ৫ই আগস্টের অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময় থেকে দেশে জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ ও চরমপন্থার বিষয়টি আলোচিত হতে থাকে। এর পেছনে কারণ হিসেবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন, সারাদেশে এসব ইসলামপন্থী উগ্রবাদী জঙ্গিগোষ্ঠী, জামায়াতে ইসলামীসহ ইসলামপন্থী জোটগুলোর একটি জোরালো ভূমিকার বিষয়টি সামনে আসে। এরই ধারাবাহিকতায় অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সারাদেশের বিভিন্ন জেলখানাগুলোতে আটককৃত চিহ্নিত জঙ্গিরা জামিনে মুক্তি পেয়ে বেরিয়ে যায়। এবং বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার প্রতিবেদন এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব বন্দিদের পুনরায় জঙ্গি কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে আসে।
বাংলাদেশের মাটিতে জঙ্গিবাদ নতুন কিছু নয়। কিন্তু উদ্বেগের বিষয়, রাজনৈতিক পালাবদল আর ক্ষমতায় বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর মতো মৌলবাদী গোষ্ঠী ক্ষমতার প্যারালালে। জাতীয় সংসদেও বিরোধী দলের অবস্থানে। গণতান্ত্রিক একটি সংকট তীব্র।
একই সঙ্গে ২০০১-২০০৬ চারদলীয় জোট সরকারের আমলে জঙ্গিবাদ ছিল ভয়াবহ। এমনকি দেশের যিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, তাঁর বিরুদ্ধেও ২০০৪ সালের ২১শে আগস্টে গ্রেনেড হামলার সম্পৃক্ততার স্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে। সেসব অভিযোগে তিনি সাজাপ্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘ দেড় দশক যুক্তরাজ্যে পলাতক ছিলেন। এক সময়কার তারেক রহমানের রাজনৈতিক কার্যালয় হাওয়া ভবন ছিল দেশের জঙ্গিবাদের ছায়া নেটওয়ার্ক, যেখান থেকে এসবের একটি নিয়ন্ত্রণ পরিচালনা হতো। বিভিন্ন তদন্ত প্রতিবেদনে তারেক রহমানকে জঙ্গিবাদের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশদাতা হিসেবেও অভিযুক্ত করা হয়।
প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়াকেও দেশের মানুষ এক সময় জঙ্গিরানী বলে অভিহিত করত। ইসলামপন্থী এসব উগ্রবাদী গোষ্ঠীকে কোলে তুলে গোলাম আজম, মতিউর রহমান নিজামীদের রাজনৈতিক যৌনসুখ নিতেন বিধবা বেগম খালেদা জিয়া।
এসব জঙ্গিবাদী কলেমার পতাকা উড়িয়ে এরা জানান দিতে চায়, দেশে শরিয়াহ আইনের বাস্তবায়ন চায় এসব চরমপন্থীরা।
শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করা গেলেই দেশকে তালেবানি রাষ্ট্রে পরিণত করা সম্ভব হবে। আল-কায়েদা কিংবা নাইজেরিয়ার বোকো হারামের মতো জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটানো সম্ভবপর হবে। ভিন্ন ধর্ম, ভিন্ন মত, অবিশ্বাসী কিংবা সংশয়বাদীদের অবদমন করা সম্ভবপর হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থায় নারীর স্বাধীনতা বলতে কিছুই থাকবে না। ভিন্ন যৌনতার এলজিবিটিকিউ+ মানুষদের হত্যাযজ্ঞ করা হবে। ধর্মীয় কালো আইনই হবে নাগরিকের জীবনবিধান।
