• মতামত
  • সমাজ ও রাজনীতি
  • মাওলানাদের ধর্মীয় ব্যাখ্যায় নারীর স্বাধীনতা ও পোশাকই যখন যৌন প্রলোভনের কারণ

    ইসলামে নারীদের যে ধরনের সম্মান, সৌন্দর্য এবং কাঠামোর তিনটি স্তরে (পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র) ব্যবস্থায় যে ধরনের ইতিহাস রয়েছে, তা কি অবমাননাকর?

    নারীদের অবরুদ্ধ করার?

    ধর্মের নামে, বোরকা ও হিজাব বিধির নামে ইসলাম ধর্মের মাওলানা, ইমাম, ওয়াজিন ও ফতোয়াবাদীরা আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপ করে। নারীদের অবরুদ্ধ করে নিজেদের এই দুনিয়াকে হেরেমখানায় পরিণত করতে চায়। আল্লাহ, কোরআন ও হাদিসে যে কথা বলা হয়নি, সে কথাও আল্লাহর নামে এখানে চালিয়ে দেওয়ার প্রবণতা আছে এ বাংলাদেশি ধর্মান্ধ মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে। এরা এখানে নিজেরাই ধর্মের প্রচারের নামে শরিয়াহ ও ফতোয়া জারি করে স্বয়ং আল্লাহর সমকক্ষে নিজেদের নিয়ে যায়।

    নারীদের ওপর ভূত ও কলাবাদুরের মতো অন্ধকারাচ্ছন্ন আইয়ামে জাহেলিয়াতের কালো অন্ধকার পোশাকবিধি ইসলামের নামে চাপিয়ে দিতে চায়।

    এর ব্যত্যয় যে এই মৌলবাদীরা কোথাও হতে দিচ্ছে না, এর সংস্করণ বাংলাদেশের যে জাতীয় সংসদ, সেখানেও দেখা মিলে। মৌলবাদী ইসলামী সংগঠন জামায়াতে ইসলামীর সংরক্ষিত মহিলা আসনের সেই কথিত মাওলানাদের যৌন সঙ্গী, রক্ষিতা কিংবা বিশেষ মুহূর্তের মুতা বিয়ের অর্ধাঙ্গিনীরা আপাদমস্তক কালো কাপড়ে ঢেকে সংসদে উপস্থিত। ভেতরে যে কী আছে বোঝা দায়।

    এমন পরিস্থিতিতে সেদিকে ইঙ্গিত করে বিএনপির একজন সাংসদ বলেন, আপনারা কারা? আপনাদের তো আমরা চিনি না! কোনো কিছু তো দেখা যায় না। এতেই জনরোষে পড়েন সেই সাংসদ।

    ইসলামি এসকল নারীর মন-মগজে ধর্মান্ধতা ও মৌলবাদ। মৌলবাদ, উগ্রবাদ ও চরমপন্থা কখনোই ইসলামের অংশ নয়। এটি ধর্ম ব্যবসায়ীদের অবতারণা, যা সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের গোমরাহী করে।

    নারী সৌন্দর্য এক বিস্ময়। স্রষ্টার সৃষ্টি। যা দেখা যায় তাই সৌন্দর্য। অদেখা কোনো কিছু সৌন্দর্যের অংশ নয়।

    হিজাব, নিকাব ও বোরকা কি কেউ স্বেচ্ছায় পরে? না। পরে না।

    একজন নারী কোনো ধর্ম, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় চাপ ছাড়াই নিজের পোশাক নিজে নির্ধারণ করতে পারবে। নারীর শরীর, চুল, হাত ও সৌন্দর্যকে ইসলামে কথিত ধর্মের আলেমরা যৌন প্রলোভনের বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করে, ইসলামে এর কোনো স্থান নেই। এর পেছনে রয়েছে কুৎসিত নারী বিদ্বেষ এবং নারী ভোগের আদি বন্দোবস্তের প্রলোভন।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *