• ধর্ম ও দর্শন
  • মুক্তচিন্তা
  • কোরআন ও শরিয়াহ কি আধুনিক রাষ্ট্রের সংবিধান হতে পারে?

    সম্প্রতি (গত ১০ আগস্ট) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে আল-কায়েদার তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে নিজেদের স্থায়ী ঘাঁটি ও গোপন সেল গড়ে তোলার চেষ্টা করছে আল-কায়েদা। সেখানে গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময় থেকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা সহ সারাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কালেমাখচিত সাদা-কালো পতাকার মিছিল দেখা যায়।

    সেসব মিছিলগুলোতে দেখা মেলে এ দেশের ইসলামপন্থীদের আকস্মিক উন্মাদনা। শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার দাবি, খেলাফত প্রতিষ্ঠা ও কোরআনের আইন প্রতিষ্ঠার দাবি সামনে আসে। শিরোনাম হয় দেশ ও বিদেশের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে।

    কোরআন ও শরিয়াহ আইন কখনোই একটি দেশের রাষ্ট্রকাঠামোর আইন হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে পারে না। এর সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কোরআনের আলোকে সংবিধান প্রণয়ন এবং এটিকে সংবিধান হিসেবে মানার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

    পৃথিবীর কোনো দেশেই শরিয়াহ আইনের অস্তিত্ব নেই। এমনকি ইসলামের পূণ্যভূমি খ্যাত সৌদি আরবেও না। সৌদির অধিকাংশ আইন রাজ-ফরমান হিসেবে বিবেচিত। এবং এসব আইন মূলত রয়্যাল ডিক্রি।

    নবী মুহাম্মদের ধর্ম ইসলাম ও কোরআন এ আধুনিক জটিল রাষ্ট্রের এক শতাংশ আইন প্রণয়নের ক্ষমতাও রাখে না। এটি ধর্মগ্রন্থের কাজ নয়।

    কারণ ধর্ম ইসলাম ও কোরআন নিয়ে ঐতিহাসিকভাবে রাষ্ট্র, সমাজ, নারী নিয়ে এমন অনেক বিদ্বেষপূর্ণ ও অবমাননাকর মনে করা হয় এ সময়ের বিবেচনায়। যা গ্রহণযোগ্যতা রাখে না।

    একটি উদাহরণ দেওয়া যাক, নবী মুহাম্মদের জীবনী থেকে। নবী মুহাম্মদ ৬ বছর বয়সে আয়েশা (রা.)-কে বিয়ে করেন। এবং বিয়ের যে বয়সসীমার কথা পাওয়া যায়, এ বয়সে একজন নারীর নিজের সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হয় না। যা এ আধুনিক সমাজে একটি শিশুর অধিকার, নিরাপদ শৈশব ও মানবাধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এবং অনেক ক্ষেত্রে তা রাষ্ট্রব্যবস্থায় প্রচলিত আইনেরও ব্যত্যয়।

    কোরআন ও শরিয়াহ রাষ্ট্রের সংবিধান ও আইন হতে পারে না। এটি গ্রহণযোগ্য নয়।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *